জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা: বহুক্রীড়া থেকে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে নতুন আশার নাম
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বহুমাত্রিক প্রতিভা খুব বেশি দেখা যায় না। তবে সেই বিরল তালিকায় দ্রুত নিজের জায়গা করে নিচ্ছেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা। হকি, কাবাডি ও অ্যাথলেটিকসে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের পর এবার তিনি পা রাখতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে—নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়ে জয়িতা ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে।
হকি থেকে ক্রিকেট: জয়িতার ব্যতিক্রমী যাত্রা
ক্রিকেটে আসার অনেক আগেই জয়িতার পরিচিতি তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড় হিসেবে। দেশের হয়ে দুটি আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
কাবাডি ও অ্যাথলেটিকসে সোনালি সাফল্য
হকির পাশাপাশি কাবাডিতেও নিয়মিত সাফল্য পেয়েছেন জয়িতা। এছাড়া অ্যাথলেটিকসের থ্রো ইভেন্টে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
২০২৩ সালের দ্বিতীয় যুব গেমসে তিনি একই দিনে তিনটি ভিন্ন খেলায় স্বর্ণপদক জিতে ক্রীড়াঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেন—যা বাংলাদেশে বিরল নজির।
👉 এই বহুক্রীড়াভিত্তিক অভিজ্ঞতাই তাকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং মানসিকভাবে দৃঢ় করে তুলেছে।
ক্রিকেটে ধীরে কিন্তু দৃঢ় অগ্রগতি
অন্যান্য অনেক ক্রিকেটারের মতো হঠাৎ উত্থান নয়, জয়িতার ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে ধাপে ধাপে।
অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ থেকে জাতীয় দলে
গত বছর অনূর্ধ্ব–১৯ নারী বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে ছয় ইনিংসে ব্যাট করে করেন ৭০ রান। যদিও পরিসংখ্যান খুব বড় নয়, তবে তার ব্যাটিংয়ে পাওয়ার ও আত্মবিশ্বাস নির্বাচকদের নজর কাড়ে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নজরকাড়া স্ট্রাইক রেট
সর্বশেষ এনসিএল টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে জয়িতা সাত ইনিংসে করেন ১৮৯ রান, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩১.২৫—যা নারী ক্রিকেটে অত্যন্ত ইতিবাচক সূচক।
এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাকে এনে দেয় বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক।
নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বড় সুযোগ
প্রাথমিক ২০ জনের ক্যাম্প থেকে চূড়ান্ত ১৫ জনের দলে জায়গা করে নেওয়াকে অনেকেই দেখছেন জয়িতার স্বাভাবিক উন্নতির ফল হিসেবে।
নারী দলের নির্বাচক সাজ্জাদ শিপন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, টিম ম্যানেজমেন্ট জয়িতাকে কেবল স্কোয়াডে রাখার জন্য নয়, বরং নিয়মিত খেলানোর পরিকল্পনাই করছে।
“জয়িতার ব্যাটে পাওয়ার আছে। ওপেনিংয়ে তাকে বিবেচনা করা হয়েছে। পাওয়ার প্লেতে ভালো শুরু দিতে পারলে দল বড় সুবিধা পাবে”—বলেন সাজ্জাদ শিপন।
চার খেলায় জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব—এক অনন্য সম্ভাবনা
যদি ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে, তবে জয়িতা হয়ে উঠবেন বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একজন ক্রীড়াবিদ, যিনি
হকি, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস ও ক্রিকেট—চারটি ভিন্ন খেলায় জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের নারী ক্রীড়ার জন্যও এক অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে জয়িতার গুরুত্ব কেন বাড়ছে?
- ✔ পাওয়ার হিটার হিসেবে ওপেনিংয়ে বিকল্প
- ✔ বহুক্রীড়া অভিজ্ঞতার কারণে ফিটনেস অ্যাডভান্টেজ
- ✔ চাপ সামলানোর মানসিক দৃঢ়তা
- ✔ ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ
বর্তমান নারী ক্রিকেট কাঠামোয় এমন multi-talented female athlete খুবই প্রয়োজন—যেখানে জয়িতা হতে পারেন গেম চেঞ্জার।
সামনে স্বপ্নের মঞ্চ
জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতার সামনে এখন একটাই বড় স্বপ্ন—
👉 ক্রিকেট বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করা।
বহুক্রীড়া থেকে ক্রিকেটে এই যাত্রা যদি সফল হয়, তবে তিনি নিঃসন্দেহে হয়ে উঠবেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী গল্পগুলোর একটি।
✅ এই ধরনের খেলার খবর, বিশ্লেষণ ও আপডেট পেতে আমাদের ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করুন। 📰

0 মন্তব্যসমূহ