২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল: ICC's আরেকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তীব্র প্রতিবাদ|
২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দল অংশ নিচ্ছে না—এই যুক্তিতেই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য আবেদন করা বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে আইসিসি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ই-মেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সিদ্ধান্তে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিক মহলে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ, হতাশা ও উদ্বেগ।
আইসিসির সিদ্ধান্ত কেন এত বিতর্কিত?
আইসিসির এই সিদ্ধান্ত শুধু অপ্রত্যাশিতই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকতার নৈতিকতার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন?
- বাংলাদেশ অতীতেও বিশ্বকাপে না খেলেও সাংবাদিকরা নিয়মিত কাভার করেছেন
- সাংবাদিকতা দল নিরপেক্ষ ও স্বাধীন পেশা
- সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় অন্তত কাভারের অনুমতি দেওয়া যেত
দৈনিক কালবেলার ক্রীড়া সম্পাদক রানা হাসান বলেন,
“এমন সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই আইসিসিকে বিতর্কের মধ্যে ফেলবে। আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে আইসিসির এমন আচরণ হতাশাজনক।”
“বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে না খেললেও অতীতে আমাদের সাংবাদিকরা সব সময় আইসিসি ইভেন্ট কাভার করেছেন। অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা আইসিসির দ্বিতীয় দফা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”
তিন দশকের ক্যারিয়ারে প্রথমবার প্রত্যাখ্যান — সেকান্দার আলী
প্রায় ৩০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে ১৩টি আইসিসি ইভেন্ট কাভার করা দৈনিক সমকাল-এর সাংবাদিক সেকান্দার আলী বলেন,
“বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করায় আইসিসি সাংবাদিকদেরও বয়কট করল! এমন নজির আগে নেই।”
তার মতে, এটি স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির অসন্তোষের প্রতিফলন।
নিরাপত্তা বিতর্ক আরও জোরালো হলো? — বর্ষণ কবীর
এনটিভির ক্রীড়া সম্পাদক বর্ষণ কবীর মনে করেন,
“আইসিসির এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে দিল, বাংলাদেশিদের জন্য ভারত নিরাপদ নয়—এই বার্তাই প্রতিষ্ঠা পেল।”
তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন,
“ভারতে না হয় সমস্যা, কিন্তু শ্রীলঙ্কায় কাভার করতে না দেওয়ার কারণ কী? এ বিষয়ে কি আমাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে?”
❝ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অস্তিত্বই মুছে গেল ❞ — শিহাব আহসান খান
ক্রিকেটভিত্তিক পোর্টাল ক্রিকেট ৯৭-এর সম্পাদক শিহাব আহসান খান বলেন,
“বাংলাদেশ দল নেই, সাংবাদিকরাও নেই—বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো উপস্থিতিই থাকল না।”
তিনি এটিকে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের মিডিয়া প্রতিনিধিত্বের জন্য বড় ধাক্কা বলে মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক সমর্থনও মিলছে
পাকিস্তানি ক্রীড়া সাংবাদিক শাকির আব্বাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ লেখেন,
“বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন না দেওয়া অন্যায়। অন্তত শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ কাভারের অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল।”
এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে?
- আন্তর্জাতিক মিডিয়া স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ
- আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ
- বাংলাদেশ-আইসিসি সম্পর্কের অবনতি
- ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও নজির হতে পারে
📌 সর্বশেষ আপডেট, বিশ্লেষণ ও এক্সক্লুসিভ খবর পেতে চোখ রাখুন –
👉 G24SportsNews | https://g24sportsnews.blogspot.com/
✨খবর : সংগৃহীত এবং ছবি:G24SportsNews Graphics Team

0 মন্তব্যসমূহ