বাংলাদেশি ড্র্যাগ ফ্লিক সেনসেশন আমিরুল ইসলাম: বিশ্ব হকিতে সম্ভাবনার নতুন তারকা | G24SportsNews
হরমানপ্রীত–গোভার্সদের ছোঁয়া নিয়ে উঠছে বাংলাদেশের নতুন হকি হিরো
বাংলাদেশ হকিতে নতুন নক্ষত্রের নাম আমিরুল ইসলাম। মাত্র ২১ বছর বয়সেই তিনি জুনিয়র বিশ্ব হকিতে আলো কাড়ছেন ভয়ঙ্কর ড্র্যাগ ফ্লিকিং ক্ষমতা দিয়ে। অনেকের চোখে তিনি ভবিষ্যতের হারমানপ্রীত সিং কিংবা ব্লেক গোভার্স—বিশ্বের দুই সেরা ড্র্যাগ ফ্লিকারেরই আদর্শ অনুসরণ করেন তিনি।
এই দুই কিংবদন্তিই বিশ্বের হকিতে “ডানব ড্র্যাগ ফ্লিকার” হিসেবে পরিচিত। ভারতের হরমানপ্রীত রক্ষণভাগে থেকে মারণাস্ত্রের মতো ড্র্যাগ ফ্লিক করেন, আর অস্ট্রেলিয়ার গোভার্স ফরোয়ার্ড পজিশনে থেকেও পেনাল্টি কর্নারের বিশেষজ্ঞ। তাদের দুজনের খেলার ধরনই আমিরুলকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
জুনিয়র বিশ্বকাপের বিস্ময়—৬ ম্যাচে ১৮ গোল!
জুনিয়র বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলে ৬ ম্যাচে ৫টি হ্যাটট্রিক, মোট ১৮ গোল—এ যেন এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান।
এর মধ্যে ১৫টি গোল এসেছে পেনাল্টি কর্নার (PC) থেকে এবং ৩টি পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে।
তিনি নিজে বললেন—
“হারমানপ্রীত সিংয়ের টেকনিক আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। ড্র্যাগ ফ্লিক শেখার শুরু থেকেই তাকে দেখে শিখেছি। ব্লেক গোভার্সও আমার প্রিয়।”
ভারতীয় গণমাধ্যমও তাকে ভবিষ্যতের ‘এশিয়ার ড্র্যাগ ফ্লিক তারকা’ হিসেবে উল্লেখ করছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ড্র্যাগ ফ্লিকার—নতুন অধ্যায়ের শুরু?
বাংলাদেশ হকিতে প্রতিভার অভাব নেই—
কিন্তু সঠিক পরিচর্যার অভাবে অনেকেই হারিয়ে যায়।
আশরাফুল ইসলাম, সোহানুর রহমান সবুজ কিংবা রোমান সরকারের মতো প্রতিভার আলো সময়ের সাথে কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে।
এর বড় কারণ—
- নিয়মিত ঘরোয়া লিগের অভাব
- আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি
- খেলোয়াড়দের বিকাশে টেকনিক্যাল সহায়তার সীমাবদ্ধতা
এ অবস্থায় আমিরুল ইসলামের ওঠে আসা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের হকির জন্য আশার আলো।
কঠোর অনুশীলন—আমিরুলের সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি
ফরিদপুরের এই যুবকের পরিশ্রম খেলার মাঠেই চোখে পড়ে।
তিনি জানান—
“টিম ট্রেনিংয়ের বাইরে প্রতিদিন অনুশীলনের আগে ও পরে প্রায় ১৫০টি ড্র্যাগ ফ্লিক করি। শরীর, কবজি, স্পিড—সবই উন্নত করার চেষ্টা করি।”
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচ সিগফ্রিড আইকম্যান বলেন—
“সে নিরলস পরিশ্রমী। প্রতিদিন বিভিন্ন ভ্যারিয়েশনে ৫০ থেকে ১০০টি ড্র্যাগ ফ্লিক অনুশীলন করে। তার কবজির শক্তি অসাধারণ, যা মানসম্মত ড্র্যাগ ফ্লিকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
আইকম্যান আরও বলেন, ড্র্যাগ ফ্লিক একটা টেকনিক্যাল সুইং—গলফের পাটিংয়ের মতো নিখুঁত রিদম লাগে।
এই রিদমের ওপর আমিরুল দ্রুতই দক্ষ হয়ে উঠছেন।
ফিল্ড গোল না পাওয়ার কারণ—কৌশলগত সিদ্ধান্ত
ওপেন প্লে থেকে গোল নেই—এই সমালোচনায় আমিরুল বললেন—
“শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ফিল্ড গোল করা সহজ নয়। আমাদের কৌশলই হলো বেশি PC আদায় করা। সতীর্থরা সুযোগ তৈরি করে দেয়, আর আমি গোল করার চেষ্টা করি।”
এটাই আধুনিক হকির বাস্তবতা—বিশ্বের সেরা অনেক দলই PC-নির্ভর।
বাংলাদেশ হকির সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা
যদি সঠিক বিনিয়োগ, কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ প্রদান করা যায়—
তাহলে বাংলাদেশ পেতে পারে এশিয়াই নয়, বিশ্বমানের একজন ড্র্যাগ ফ্লিকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে—
বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো কোনো ড্র্যাগ ফ্লিকার এভাবে আলো ছড়াননি। আমিরুলের উন্নতি অব্যাহত থাকলে আগামী ৩–৫ বছরের মধ্যেই তিনি এশিয়ার শীর্ষ ড্র্যাগ ফ্লিকারদের একজন হতে পারবেন।
উপসংহার
আমিরুল ইসলাম শুধু একজন প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়ই নন—
তিনি বাংলাদেশের হকির পুনর্জাগরণের প্রতীক।
যদি তার এই উন্নতি অব্যাহত থাকে, তবে সামনে বাংলাদেশ বিশ্ব হকিতে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসবে—এটা বলাই যায়।
✅ এই ধরনের খেলার খবর, বিশ্লেষণ ও আপডেট পেতে আমাদের ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করুন। 📰✨
খবর এবং ছবি: সংগৃহীত

0 মন্তব্যসমূহ