🇧🇩 এশিয়ান কাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন ভাঙল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের
এক বছরে বাংলাদেশের তিনটি নারী ফুটবল দলের এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেওয়ার রোমাঞ্চকর ইতিহাস গড়ার স্বপ্নটা পূরণ হলো না। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে আজ জয় পেলেই মূল পর্বে খেলার সুযোগ পেত বাংলাদেশ। কিন্তু চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে সেই স্বপ্ন থেমে গেছে আকাবার সবুজ মাঠেই।
🏆 আগের সাফল্যের পর এবারও চোখ ছিল মূল পর্বে
২০২৪ সালের জুলাইয়ে জাতীয় নারী ফুটবল দল এবং আগস্টে অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। শুক্রবার রাতে অনূর্ধ্ব-১৭ দল চায়নিজ তাইপেকে হারাতে পারলে আগামী এপ্রিল মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপে জায়গা করে নিতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই কাঙ্ক্ষিত জয় আসেনি।
⚽ পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় চায়নিজ তাইপে
জর্ডানের আকাবা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলে চায়নিজ তাইপে। নবম মিনিটেই ডি-বক্সে ফাউল করায় পেনাল্টির সুযোগ পায় তারা। রেফারি আনন্থিপ ফোপানের বাঁশিতে স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন উ ক্যাই-শুয়ান।
🥅 প্রথমার্ধেই ২ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ
গোল হজমের পরেও বাংলাদেশের মেয়েরা খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো ৩৪ মিনিটে ফ্রি–কিক থেকে বল ধরে দারুণ ভলিতে গোল করেন তাইপের মিডফিল্ডার চুং ইউন চিয়েন। ২-০ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় লাল-সবুজের দল।
🧭 দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দ হারিয়ে বড় পরাজয়
বিরতির পর সৌরভী আকন্দ ও পূর্ণিমা মারমাদের নেতৃত্বে কয়েকটি গোছানো আক্রমণের চেষ্টা হলেও প্রতিপক্ষের শক্ত রক্ষণে তা ভেঙে যায় মাঝমাঠেই। ৬৬ মিনিটে তৃতীয় গোল হজমের পর কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারায় বাংলাদেশ। যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল হজম করে ৫-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়ে মাঠ ছাড়ে সাইফুল বারীর দল।
📊 আগের ম্যাচেও হাতছাড়া হয়েছিল মূল্যবান পয়েন্ট
এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে জর্ডানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। ম্যাচের ৩ মিনিটেই লিড নিয়েও ৮৯ মিনিটে গোল খেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারায় তারা। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচের ড্র আর আজকের বড় হার মিলিয়ে এশিয়ান কাপে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল।
📝 উপসংহার:
বাংলাদেশ নারী ফুটবলের উত্থানের ধারায় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের এই হারটা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। তবে আগের দুটি বয়সভিত্তিক ও জাতীয় দলের যোগ্যতা অর্জন দেশের নারী ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো জ্বেলে রাখছে। পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ঘাটতি পূরণ করতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে সাফল্য এনে দিতে পারে এই তরুণ ফুটবলাররাই।
খবর এবং ছবি: সংগৃহীত


0 মন্তব্যসমূহ