🇧🇩 শেষ ওভারে নাটকীয় হার, বাংলাদেশের হাতছাড়া সহজ জয়
মাত্র ১২ বলে ১২ রান দরকার, হাতে ৬ উইকেট—এমন সমীকরণে যে কোনো দলই জয়ের সুবাস পায়। বাংলাদেশের নারী দলও পেয়েছিল। কিন্তু ক্রিকেট নামের অনিশ্চয়তার খেলায় এক ওভারেই বদলে গেল পুরো চিত্র। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর বিধ্বংসী বোলিং ও বাংলাদেশের নার্ভ ভাঙনের গল্পই বলছে এই ম্যাচ।
নাভি মুম্বাইয়ের ড. ডি. ওয়াই. পাটিল একাডেমি মাঠে ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য মুহূর্ত। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৯ রান, হাতে ছিল ৪ উইকেট। উইকেটে ছিলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও রাবেয়া খান। কিন্তু চামারির সেই এক ওভারেই সব ওলটপালট—টানা চার উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন তিনি। ৫০ ওভারের শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড থামল ১৯৫/৯ রানে—৭ রানের হতাশাজনক হার।
🏏 শেষ ওভারের রোমাঞ্চ: ৭ বলে ৫ উইকেট হার
৪৯তম ওভার শেষে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। সবকিছুই বাংলাদেশের দিকেই ঝুঁকে ছিল। কিন্তু চামারি আতাপাত্তু বল হাতে নিয়ে যা করলেন, তা এক কথায় ক্রিকেট ইতিহাসের এক বিরল দৃশ্য।
-
✅ প্রথম বল: রাবেয়া খান এলবিডব্লিউ আউট।
-
✅ দ্বিতীয় বল: নাহিদা আক্তার রান নিতে গিয়ে রানআউট।
-
✅ তৃতীয় বল: অধিনায়ক নিগার সুলতানা লং-অফে ক্যাচ আউট।
-
✅ চতুর্থ বল: মারুফা আক্তার এলবিডব্লিউ।
শেষ দুই বলে দরকার ছিল ৯ রান, কিন্তু উইকেটে ছিলেন কেবল নিশিতা আক্তার। কোনো অলৌকিক কিছু হয়নি—ব্যাট ঘুরলেও জালের ফাঁদে আটকেই গেল বাংলাদেশের জয়।
নিগারের চোখে জল, ড্রেসিংরুমে নেমে এলো নিস্তব্ধতা। যা ছিল সহজ জয়, তা মুহূর্তেই রূপ নিল হারের গল্পে।
📝 বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস: জয়ের কাছ থেকে ছিটকে যাওয়া
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না।
-
ফারজানা হক ৭ রানে রানআউট
-
রুবিয়া হায়দার শূন্য রানে আউট
তবে এরপর সিনিয়র দুই ব্যাটার শারমিন আক্তার ও নিগার সুলতানা জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। দুজন মিলে ১৩০ রানের অসাধারণ পার্টনারশিপ গড়েন। শারমিন অপরাজিত ৬৪* রানে লড়াই চালালেও শেষ দিকে পাশে পাননি কাউকে।
⚠️ মোড় ঘোরে ৩৬তম ওভারে
৩৬তম ওভারে শারমিন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে ব্যাটিং লাইনে নেমে আসে অস্থিরতা। শেষ ৫ ওভারে দরকার ছিল ৩০ রান, কিন্তু পড়ে ৫টি উইকেট। ধীরে ধীরে জয়ের সমীকরণই পরিণত হয় চাপে।
🌟 চামারির বোলিং: একক নাটক
নিজের ইনিংসে ৪৬ রান করার পর বল হাতেও ছিলেন নায়ক। ১০ ওভারে ৪২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন চামারি আতাপাত্তু।
তার হাতে ধরা দেয় নিগার, রাবেয়া ও মারুফার মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
মধ্য ওভারে হাশিনি পেরেরা ও নিহালক্ষি দে সিলভার জুটি লঙ্কান ইনিংসকে শক্ত ভিত্তি দেয়। তাদের লড়াকু ব্যাটিংয়ে দাঁড়ায় ২০২ রানের লক্ষ্য।
🥀 শেষে শুধু হতাশার গল্প
শেষ বাঁশি বাজার পর বাংলাদেশের ডাগআউটে নেমে আসে নিরবতা। কেউ কিছু বলছেন না, সবাই হতবাক। নিগার সুলতানা স্থির হয়ে বসে আছেন—মনে হচ্ছে, যা ঘটল, তা যেন স্বপ্নও না।
শেষ ১২ বলে ১২ রান—ক্রিকেটে এর চেয়ে সহজ সমীকরণ খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু নার্ভ, চাপ আর সামান্য ভুল সিদ্ধান্তের মিশেলে সহজ সমীকরণই হয়ে গেল অসম্ভবের সমান।
📌 ম্যাচ বিশ্লেষণ: মানসিক ভাঙনের প্রতিচ্ছবি
এই হার শুধু একটি ম্যাচ হার নয়—এটি মানসিক ভাঙনের প্রতিচ্ছবি। জয়ের এত কাছে গিয়েও হাতছাড়া হওয়া ব্যথার, কষ্টের, এবং প্রশ্নের গল্প। নিগারদের চোখের জল যেন বলছে—
“এমন ম্যাচও কি হারতে হয়?”
✅ এই ধরনের খেলার খবর, বিশ্লেষণ ও আপডেট পেতে আমাদের ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করুন। 📰✨
খবর এবং ছবি: সংগৃহীত

0 মন্তব্যসমূহ