ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের প্রতিটি বাউন্ডারিতে যেন একটু একটু করে ম্লান হচ্ছিল বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন। গুয়াহাটির মাঠে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্নে অন্ধকার নামিয়ে হিদার নাইটই এনে দিলেন ইংল্যান্ডের জয়ের হাসি। তবে গল্পটা ভিন্ন হতে পারত, যদি আম্পায়ারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে যেত।
শূন্য
রানে নাইটের ক্যাচ উইকেটের পেছনে নিগার সুলতানা জ্যোতি নিলেও তৃতীয় আম্পায়ার পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ‘নট আউট’ ঘোষণা
করেন। পরে ১৩ রানে স্বর্ণা
আক্তারের হাতে ধরা পড়লেও একই কারণে টিভি আম্পায়ার এবারও তাঁকে আউট দেননি। ম্যাচ শেষে নাইট নিজেও স্বীকার করেছেন, তিনি ভেবেছিলেন ওই বলেই তাঁর
ইনিংস শেষ হয়ে গিয়েছিল।
মাত্র
১৭৯ রানের লক্ষ্য দিয়েও বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন দলকে। ১০৩ রানে ইংল্যান্ডের ৬ উইকেট ফেলে
দিয়ে জয়ের আশা জাগান তাঁরা। কিন্তু ৩ নম্বরে নেমে
নাইট ১১১ বলে ৭৯ রানের ইনিংস
খেলে সেই আশা গুঁড়িয়ে দেন।
বল
হাতে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন মারুফা আক্তার—প্রথম ওভারের শেষ বলেই তুলে নেন প্রথম উইকেট। পরের ওভারে টেমি বেমন্টের সহজ ক্যাচ ফেললেও পরে তিনিই ২৯ রানে তাঁকে
ফিরিয়ে দেন। এরপর ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ও নাইট ৭৩
বলে ৪০ রানের জুটি
গড়ে চাপ কাটান। কিন্তু ফাহিমা খাতুন ৩ বলের ব্যবধানে
ব্রান্ট (৩২) ও ডাঙ্কলিকে (০)
আউট করে আবার ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন বাংলাদেশকে। পরে এমা ল্যাম্বকেও ফেরান ফাহিমা, আর সানজিদা আক্তার
তুলে নেন ক্যাপসির উইকেট।
তখন ইংল্যান্ডের জিততে প্রয়োজন ছিল ৭৬ রান, হাতে ৪ উইকেট। সেখান থেকেই নাইট ও চার্লি ডিন ৭৯ রানের জুটি গড়ে সহজে দলকে জিতিয়ে দেন।
এর
আগে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে জুটি গড়েছিলেন সোবহানা মোস্তারি ও রাবেয়া খান।
৩ নম্বরে নামা সোবহানা ১০৮ বলে ৬০ রানের ধৈর্যশীল
ইনিংস খেলেন। ৯ নম্বরে নেমে
রাবেয়া ২৭ বলে ৬
চার ও ১ ছক্কায়
ঝড়ো ৪৩ রান করে
দলের সংগ্রহ ১৭৯ পর্যন্ত নিয়ে যান।
শেষ
পর্যন্ত জয় আসেনি, কিন্তু
লড়াইয়ে পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ নারী
দল। অভিজ্ঞ নাইটের ইনিংসই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ম্যাচে।
খবর
এবং ছবি: সংগৃহীত



0 মন্তব্যসমূহ